এক সাথে হাজারো লোকের ইফতার: নেই ধনি-গরিব ভেদাভেদ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 24 Feb, 2026
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লাহ শাহী মসজিদ। যেখানে প্রতিদিন ইফতার করছেন তিন থেকে সাড়ে হাজারের বেশি মানুষ। মোঘল আমলে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দের শায়েস্তা খাঁর ছেলে উমেদ খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করে ছিলেন।
ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভূলে মসজিদটিতে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে চলছে একই নিয়মে ইফতারের আয়োজন। এ কাজে নিয়োজিত আছেন ১৫ জন বাবুচি ও তাদের সহযোগীরা। আজ জানাবো চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের ইফতার আয়োজনের কথা।
মসজিদের খোলা বারান্দায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে রকমারি ইফতারি। আর এর সামনে সারি বেঁধে বসে আছেন মুসল্লিরা। লম্বালম্বি মুখোমুখি তিনটি সারি। নানা বয়সের এবং শ্রেণি-পেশার এক সাথে ইফতার সারেন মসজিদে। নেই ধনি-গরীব ভেদাভেদ। এ যেন এক ভিন্ন দৃশ্য!
প্রতিবছর রমাজানে এমন দৃশ্য দেখা যায় মোঘল আমলে নির্মিত আন্দরকিল্লাহ শাহী মসজিদে। রোজার প্রথম দিকে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন থাকলেও সময় সাথে বাড়তে থাকে রোজাদারদের সংখ্যা, কখনো কখনো এ সংখ্যা চার থেকে পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে জানান আয়োজকরা। হাজার হাজার মানুষের সাথে একসাথে বসে ইফতার করা যে আনন্দ তা জানালেন রোজাদাররা।
১৫ বাবুচি এবং তাদের সহযোগীরা মিলে সকাল থেকে শুরু করেন বিশাল এই আয়োজনের প্রস্তুতি। বিকেল ৫টার মধ্যে তৈরী করা হয়ে যায় ইফতার সামগ্রী। এসব ইফতার সামগ্রী বিতরনে সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রতিদিনের তৈরী ইফতার সামগ্রীর মধ্যে আছে ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপী, শরবতসহ ৮ধরনের ইফতার।
সমতল থেকে প্রায় ৩০ ফুট উপরে মোঘল স্থাপত্য নির্মাণ কৌশলীতে নির্মিত আন্দরকিল্লাহ শাহী মসজিদের বিশাল এই কর্মযজ্ঞে প্রতিবছর নাম পরিচয় গোপন রাখা চার-পাঁচজন বিত্তবান সহযোগিতা দিয়ে থাকেন, এছাড়া অনান্য সাধারণ মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বলে জানান আয়োজকরা।
আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসুল (স.) হযরত মাওলানা আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানীর উদ্যোগে মুলত: মসজিদটিতে ১৯৯৬ সালে মক্কা -মদিনার আদলে ইফতারের রেওয়াজ চালু করা হয়। পরে ২০০১ সাল থেকে শুরু হয় ব্যাপক আকারে আয়োজন। সেই থেকে এই ধারা অব্যহত আছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

